করোনা এবং পঙ্গপালের আক্রমণ কি গজব হয়ে পৃথিবীতে এসেছে??
পোস্টটি পড়ার পর উত্তরটি "হ্যা" বা " না" কি হবে আপনারাই ভাল বলতে পারবেন।প্রথমে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা দিয়ে শুরু করা যাকঃ
গোটা পৃথিবী যেন থমকে গেছে সিরীয়,ফিলিস্তিনি,কাশ্মীরী বা রোহিঙ্গাদের দায়ের করা সেই হাজারো মামলাগুলোর সামনে, যারা বিচার চেয়েছিল একমাত্র প্রতাপশালী সর্বশক্তিমানের কাছে,,,,,,,,
সিরীয় এক শিশু মৃত্যর আগে বলেছিল--
"আমি আল্লাহকে সবকিছু বলে দিবো।
অন্য একটি শিশু ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেছিলো, "ও আল্লাহ, আমি মরতে চাই! আমাদের কোন রুটি নেই কেন? আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাও যাতে আমরা রুটি খেতে পারি!"...
সিরীয়, ফিলিস্তিনি, রোহিঙ্গা কিংবা কাশ্মীরীদের উপর অন্যায় নির্যাতনের উপর রচনা লিখতে এই পোস্ট নয়,তাই মূল আলোচনা শুরু করি ---
জুলুম,নির্যাতন যে শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের উপর হওয়ার জন্য এই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় নি সেটা বুঝতে হলে অনেকটা পিছনে যেতে হবে।এজন্য ইহুদিদের কিছু ঘটনার বর্ননা দিয়েই বুঝানোর চেষ্টা করব যাতে কেউ সাম্প্রদায়িকতার গন্ধও কেউ না পায়।
ইহুদিদের ধর্মের ইতিহাস সর্ম্পকে ধারনা থাকলে এই লিখাটি বুঝতে সুবিধা হবে।এরপরও বুঝিয়ে লিখার চেষ্টা করছি।
ইহুদিদের নবীসমূহদের মধ্যে হযরত মূসা (আ) এর সময়কালের ঘটনা উল্লেখ করা যাক।।উনি ইসলাম ধর্মেরও একজন প্রসিদ্ধ নবী।
ফারাওয়ের শাসনের সময়কালে মিসরের ওপর যে অভিশাপ বা গজবগুলো নেমে এসেছিল সেগুলোকে বিশ্লেষণ করলে অনেক কিছুই বুঝা যেতে পারে। ইহুদীদের তাওরাত অনুযায়ী দশটি গজব নেমে এসেছিল মিসরের ওপর, যার শেষে ফারাও তার দাসবন্দী ইসরাইলিদের বা ইহুদিদের মিসর ত্যাগের অনুমতি দেন।অন্যায় ভাবে তারা ইসরাইলিদের বা ইহুদিদের দাস বানিয়ে আটকে রেখেছিল।এই দশটি গজবের একটি হচ্ছে মহামারী প্লেগ বা plague of Egypt..অন্য আরেকটি হচ্ছে পঙ্গপালের আক্রমন।
ব্যাঙের উৎপাত,নদীর পানি রক্তে পরিণত হওয়া,মাছি বা দংশকের আক্রমণ,বিষফোঁড়া,শিলাবৃষ্টি,পুরো পৃথিবী আঁধার হওয়া, প্রথম সন্তানের মৃত্যু ইত্যাদিও উল্লেখযোগ্য।
গজবগুলি একে একে পর্যায়ক্রমে এসেছিল মিশরীয়দের উপর কারন প্রতিবারই ফারাও রাজা গজব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বনী-ইজরাইলিদের দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়ার ওয়াদা করত কিন্তু পরে ওয়াদা রক্ষা করত না।দশম গজবটির পর বাধ্য হয়ে তারা বনী-ইজরাইলিদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল।
এখানে,উল্লেখ্য যে তারা মিশর থেকে যে স্থানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল সে স্থানটি হচ্ছে বর্তমান ফিলিস্তিন এবং তাদের ধর্মমতে এটিই তাদের পবিত্র সেই ভূমি যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তাদের দিয়েছিলেন ইয়াকুব (আ) এর সময় থেকে।ফিলিস্তিনিদের মত ইজরাইলিরাও মূলত এ স্থানের আদি বাসিন্দা। পরবর্তীতে অনেক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা মিশর এসে বসবাস করে।এ বিষয়ে বিস্তারিত অন্য কোন দিন লিখার চেষ্টা করব।
এ গজব গুলি সম্পর্কে ইহুদিদের ধর্মীয় গ্রন্থ তাওরাতে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।যেহেতু ইহুদিরা তাদের গ্রন্থ তাওরাতের অনেক কিছুই বিকৃত করে ফেলেছে সুতরাং এক্ষেত্রে অবশ্যই সবকিছু বিশ্বাস করা ঠিক হবে না।এজন্য ইসলামের সাথে ইহুদী ধর্মে বর্ণিত মুসা (আ) এর ঘটনাগুলো সর্ম্পকে মিল খুজতে হবে।তবে এই গজব সর্ম্পকে অনেক কিছুই প্রায় হুবহুই মিলে যায়, কেবল কিছু জায়গা বাদে।
,ইহুদীরা যেখানে দশটি গজবে বিশ্বাস করে, ইসলামে কুরআন ও হাদিসে সেখানে দশম গজবটি সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।দশম গজবটি হচ্ছে প্রথম সন্তানের মৃত্যু।
এ গজবের কথা ইহুদীরা বিশ্বাস করে থাকে, কারণ ইহুদীদের তাওরাত এ কথা বলছে। কিন্তু ইসলামে এ গজবের কথা উল্লেখ নেই, বাকিগুলো নিয়ে সমস্যা না থাকলেও। ইসলামে এ 'দশম' গজবের কোনো কথা নেই, তাছাড়া একজনের পাপের ভার অন্য মানুষ বহন করে না- এটাই ইসলামে প্রচলিত। তবে ফারাও রাজা একের পর পর এক গজবে অতিষ্ঠ হয়ে বনী ইজরাইলিদের মিশর ত্যাগের অনুমতি দেয়।কিন্তু ফারাও রাজা রাগে ক্ষোভে আক্রমন করার জন্য পিছু নেয়। তখন আল্লাহর হুকুমে মুসা আঃ ও উনার সাথীরা যখন পার হয়ে যান লোহিত সাগর তখনই দুই ভাগে বিভক্ত হওয়া লোহিত সাগের ডুবে মৃত্যু হয় ফেরাউন ও তার সাথীদের।
এই গজব সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে, "তারপর আমি পাকড়াও করেছি- ফেরাউনের অনুসারীদেরকে দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে এবং ফল ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির মাধ্যমে যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।" (কুরআন, সুরা আরাফ, ৭:১৩০) "আমি তাদের উপর পাঠিয়ে দিলাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত প্রভৃতি বহুবিধ নিদর্শন একের পর এক। তারপরেও তারা গর্ব করতে থাকল। বস্তুতঃ তারা ছিল অপরাধপ্রবণ। আর তাদের উপর যখন কোনো আযাব পড়ে তখন বলে, হে মূসা আমাদের জন্য তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট সেই বিষয়ে দোয়া করো যা তিনি তোমার সাথে ওয়াদা করে রেখেছেন। যদি তুমি আমাদের উপর থেকে এ আযাব সরিয়ে দাও, তবে অবশ্যই আমরা ঈমান আনব তোমার উপর এবং তোমার সাথে বনী ইসরাঈলদেরকে যেতে দেব। অতঃপর যখন আমি তাদের উপর থেকে আযাব তুলে নিতাম নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত, যেখান পর্যন্ত তাদেরকে পৌঁছানোর উদ্দেশ্য ছিল, তখন তড়িঘড়ি তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত।" (কুরআন, সুরা আরাফ, ৭:১৩৩-১৩৫)
মোট নিদর্শনের সংখ্যা হিসেবে কুরআনে বলা হয়েছে, "আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন দান করেছি।" (কুরআন, সুরা বনি ইসরাইল, ১৭:১) অবশ্য, কোথাও কোথাও এর মাঝে লাঠি থেকে সাপ হয়ে যাওয়া, এবং বগল থেকে শ্বেতশুভ্র হাত বের করাকেও অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়েছে।
যাই হোক, একের পর এক কথার বরখেলাপ করা,আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস এবং বনী-ইজরাইলিদের দাস বানিয়ে জুলুম নির্যাতন করার কারণেই মূলত তখনকার সময়ে গজবগুলি নাজিল হয়েছিল।
এখানে উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র শুধুমাত্র মুসলিম নয় সমগ্র মানবজাতি যেহেতু মহান আল্লাহর সৃষ্টি সেহেতু কোন নির্দিষ্ট জাতি বা ধর্মের অনুসারীদের উপর জুলুম, নির্যাতন করা মানুষের অনেক বড় ভুলই বটে।হয়ত এরই ফল ভোগ করছি আমরা।
সুতরাং অতীতের ঘটনার মহামারী প্লেগ এবং বর্তমানের করুনা বা পঙপালের আক্রমণ থেকেই সহজে অনুমান করা যায় যে, আমাদের বর্তমান অবস্থা হয়ত আমাদের প্রাপ্যই ছিল।
কারণ যেখানে ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে যার ধর্ম শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করতে সেখানে যদি আল্লাহর ঘর মসজিদ ভাঙার অনুমতি আসে সুপ্রিম কোর্ট থেকে(বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ), এবং দিল্লির মত জায়গাতে মসজিদে অন্য ধর্মের পতাকা অন্যায় ভাবে উড়ানোর পরও বাকি মুসলিম দেশগুলো নিন্দা প্রস্তাবও যখন করে না, সেখানে আর কিছুই বলার থাকে না।
পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছেঃ
যে ব্যক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তার নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় জালেম আর কে? এদের পক্ষে মসজিদসমূহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায়। ওদের জন্য ইহকালে এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।
(আয়াত- ১১৪)।
সমগ্র পৃথিবী আজ এক সংক্রামক জীবাণুর মুখোমুখি কিন্তু জীবাণু ত ছড়িয়েছে অনেক আগেই যখন সিরিয়া-ফিলিস্তিনের জনপদে নিক্ষেপ হয়েছে একের পর পর জীবাণুর মত ভয়ানক গুলি, বোমা।কাশ্মীরীদের অধিকার হরন করে দেয়া হয়েছে কারফিউ মাসের পর মাস। সমগ্র পৃথিবী তখন নিশ্চুপ ছিল,, হয়তবা নিহতদের আত্মারা এখন প্রশ্ন করছে,,শুধু কি সাবান দিয়ে হাত ধৌত করলেই এই রক্তরঞ্জিত ও দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পৃথিবীর মানুষের হাত করোনামুক্ত হবে???(ভাল লাগলে পেইজে লাইক ও শেয়ার দিবেন)



0 Comments