![]() |
| ডুবে যাওয়ার আগে ঠিক এই ভাবে দুই অংশে ভেঙে গিয়েছিল টাইটানিক |
"টাইটানিক" যে নামটি শুনলেই আমাদের হৃদয়ে চিত্রিত হয় অন্যরকম একটি অনুভূতি।এই নামটি মনে করিয়ে দেয় ব্যাথা-বেদনার একটি ইতিহাস যা আজও মানুষের হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়।আটলান্টিকের শীতল জলে ক্রমশ ডুবতে থাকা টাইটানিক ও তার যাত্রীদের নিয়ে গল্প ও মুভি যেন এই টাইটানিককে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে যা তাকে ইতিহাসে জায়গা দিতে অনেকটাই সাহায্য করেছে।টাইটানিকের সাথে সেদিন ডুবে মারা গিয়েছিল ১৫১৭ জন।আইসবার্গের সাথে ধাক্কায় বিপর্যস্ত টাইটানিককে বাচানো অসম্ভব ছিল কিন্তু টাইটানিকের অধিকাংশ যাত্রীদের উদ্ধার করা সম্ভব ছিল।টাইটানিকের খুবই কাছাকাছি অবস্থান করছিল ক্যালিফোর্নিয়ান নামক একটি জাহাজ। মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে দাড়িঁয়ে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ান সাহায্য না করলেও কার্পাথিয়া ঠিকই এগিয়ে এসেছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার দূর থেকে।টাইটানিক যেমন ছিল এক বিস্ময়ের নাম তেমনি টাইটানিকের বিপর্যয় ও উদ্ধার অভিযান ছিল রহস্যে ঘেরা।এই পর্বে থাকছে নিমজ্জিত টাইটানিক ও কাছাকাছি অবস্থান করা ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজ সহ সেই রাতের অজানা অনেক ঘটনার বিস্তারিতঃ
১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে টাইটানিক। সে সময় টাইটানিকে মোট যাত্রী ছিল ২২০০ জন এবং কয়েকশ কর্মী।সেই বছর এপ্রিলে সমুদ্রের আইসবার্গের অবস্থা বিগত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল।আইসবার্গ হল সাগরের বুকে ভাসতে থাকা বিশাল বিশাল সব বরফখণ্ড। এগুলোর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এগুলোর আট ভাগের মাত্র এক ভাগ পানির উপরে থাকে। সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা বড় অংশটি দেখা যায় না
অন্যদিকে ১৯১২ সালের ০৫ এপ্রিলে ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের অধিনায়ক স্ট্যান্ডলি লর্ড, বোস্টনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের লিভারপুলের রয়্যাল অ্যালবার্ট ডক ত্যাগ করেন।এই সমুদ্রযাত্রায় জাহাজটি কোনও যাত্রী বহন করছিল না।
১৪ এপ্রিলে টাইটানিক সর্বমোট ৬ বার বরফখন্ডের সংকেত পেয়েছিল।সকাল ৯.০০ টায় আরএমএস কার্নিয়া ও দুপুর ১.৪২ মিনিটে আরএমএস বেল্টিক জাহাজের মাধ্যমে টাইটানিকের ওয়্যারলেস অফিসার বরফখন্ড সর্ম্পকে সর্তকবার্তা পেয়েছিল।এই সর্তকবার্তাটি ব্রিজে(যেখান থেকে জাহাজ চালানো হয়) পাঠানোর পর টাইটানিকের চালক স্মিথ উত্তরে বাঁক নিয়ে জাহাজ চালানো শুরু করেছিলেন।দুপুর ১.৩০ মিনিটে আমেরিকা নামক একটি জাহাজ যেটি টাইটানিকের কাছাকাছি ও উত্তর দিকেই ছিল তারাও ২টি বড় বরফ খন্ড সর্ম্পকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।কিন্তু ওয়্যারলেস অফিসার নিজস্ব কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে সর্তকবার্তাটি জাহাজের ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রনকেন্দ্রে পাঠাতে ভুলে গিয়েছিলেন।তারপর রাত ৭.২০মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ান ও ৯.৪০ মিনিটে মেসাবা নামক ২টি জাহাজের থেকে টাইটানিকের ওয়্যারলেস অপারেটরকে আইসবার্গ সর্ম্পকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল।কিন্তু এই সতর্কবার্তাগুলিও ব্রিজে বা নিয়ন্ত্রনকেন্দ্রে পাঠানো হয় নি কারন ওয়্যারলেস অফিসার কেপরেসের রেডিও স্টেশনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রাত ১০:৩০ মিনিটে
ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজ যখন একটি বৃহৎ বরফক্ষেত্রের মুখোমুখি হয়ে নিজেরা থেমে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন এই বিষয়ে ওয়্যালেসের মাধ্যমে ঘোষনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের ক্যাপ্টেন।
ক্যালিফোর্নিয়ানের ক্যাপ্টেন লর্ড জাহাজটি থামিয়ে সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।লর্ড জাহাজের ইঞ্জিনিয়ারদের কেবিনে যান এবং তাদের প্রধানের সাথে দেখা করেন, যাকে তিনি থামানোর বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তাঁরা যখন এই বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন তখন তারা দেখতে পেয়েছিলেন যে একটি জাহাজের আলো আসছে। ক্যাপ্টেন লর্ড তার ওয়ারল্যাস অপারেটর ইভান্সকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন "এই অঞ্চলে কি অন্য কোন জাহাজ রয়েছে?ইভান্স উত্তর দিয়েছিলেন শুধুমাত্র টাইটানিক রয়েছে।ক্যাপ্টেন লর্ড ইভান্সকে ওয়্যারলেসে ঘোষনা দিতে বললেন যে ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজকে থামানো হয়েছে এবং বরফের চারপাশে ঘিরে রাখা হয়েছে।
রাত ১১.৩০ মিনিটে এ যখন ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের অপারেটর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে তাদের বিষয়ে জানিয়েছিল তখন টাইটানিকের অন ডিউটি ওয়্যারলেস অপারেটর জ্যাক ফিলিপস ওয়্যারলেস স্টেশনের যাত্রীদের বার্তাগুলির ব্যাকলোগ সাফ করতে ব্যস্ত ছিল।বার বার একই ধরনের বার্তা পাওয়ায় ও তার কাজে ব্যাঘাত ঘটায় তিনি উত্তেজিত হয়ে ক্যালিফোর্নিয়ানের অপারেটরকে বলেছিলেনঃ চুপ কর, চুপ কর আপ!আমি কেপ রেস নিয়ে কাজ করছি। এমন উত্তর পেয়ে ইভানস রেগে তার ওয়্যারলেস সরঞ্জাম বন্ধ করে বিছানায় চলে গেলেন এবং বিরাট বড় ভুলটি করে বসলেন।দশ মিনিট পরে রাত ১১.৪০ এ টাইটানিক একটি আইসবার্গে আঘাত হানে।
ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের তৃতীয় অফিসার চার্লস গ্রোভস, ব্রিটিশ তদন্তের সময় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, ২৩:১০ মিনিটে ১০ বা ১২ মাইল দূরে অন্য একটি জাহাজের বাতিগুলি দেখেছিলেন।১১.৩০ মিনিটে গ্রোভস লর্ডকে অবহিত করার জন্য নীচে গিয়েছিলেন। গ্রোভের কাছে এটি স্পষ্টভাবেই একটি বড় জাহাজ ছিল কারণ এটির ডেক উজ্জ্বলভাবে আলোকিত ছিল।কিন্তু ১১.৪৫ মিনিটে জাহাজটির ডেক লাইটগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে তার কাছে মনে হয়েছিল ঠিক একই সময়ে যখন টাইটানিকের ইঞ্জিনগুলি বন্ধ করে হয়ে গিয়েছিল। যখন ক্যাপ্টেন লর্ডকে জানিয়েছিলেন তখন তাকে মোর্স ল্যাম্পের মাধ্যমে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু এতে চেষ্টা করেও কোন উত্তর পাওয়া গিয়েছিল না।কারন ১১.৪০ মিনিটে টাইটানিকের বিপর্যয় তখন শুরু হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু ওয়্যারলেসের মাধ্যমে কেন যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয় নি এটাই একটি বড় রহস্যের বিষয়।
মধ্যরাতে অর্থাৎ রাত ১২টায়, ক্যালিফোর্নিয়ানের দ্বিতীয় অফিসার হারবার্ট স্টোন ৩য় অফিসার গ্রোভসের নিকট দাঁড়িয়ে সমুদ্রের দিকে নজর রাখেন। তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, তিনিও প্রায় পাঁচ মাইল দূরে একটি জাহাজ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি জাহাজটিকে মোর্স বাতির মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কিন্তু কোন উওর পান নি।অন্যদিকে তখন রাত ১২ টায় টাইটানিকের লাইফবোট গুলিতে যাত্রী উঠানো শুরু হয়েছিল।জাহাজে প্রায় ২২০০ এর উপরে যাত্রী থাকলেও মাত্র ২০টি লাইফবোটে ১১৭৮ জনকে উঠানো যাবে বুঝতে পেরে প্রথমে মহিলা ও শিশুদের উঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং গাইড করার জন্য জাহাজের নাবিকদের সাথে উঠানো হয় এবং ক্যাপ্টেন ওয়্যারলেসে বিপদের সংকেত পাঠাতে বলেছিলেন।১২.১৫ মিনিটে ফ্রানফ্রুট নামের একটি জাহাজ প্রথম সাড়া দিয়েছিল এবং এটি টাইটানিক থেকে প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার দূরে ছিল।১২.২০ মিনিটে আরএমএস কার্পাথিয়া সংকেতে সাড়া দিয়েছিল যার দুরত্ব ছিল টাইটানিক থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার।কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের ওয়্যারলেস থেকে যোগাযোগ করা হয় নি।
১২.৪৫ মিনিটে টাইটানিক থেকে বিপদ সংকেত হিসেবে প্রথম রকেট নিক্ষেপ করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ানের শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা জেমস গিবসন, যিনি মোর্স সিগন্যালিং করছিলেন, তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে ১২.৫৫ মিনিটে ২য় কর্মকর্তা স্টোন তাকে বলেছিল যে, তিনি কাছাকাছি উপরের আকাশে পাঁচটি রকেট পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং বিষয়টি তিনি ক্যাপ্টেন লর্ডকে জানিয়েছিলেন।কিন্তু লর্ড এবং স্টোন উভয়ই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, এটি নাকি কোন সঙ্কটের সংকেত ছিল না।লর্ড স্টোনকে জাহাজেটির সাথে মোর্স ল্যাম্পের মাধ্যমে যোগাযোগের নির্দেশ দিলেও ওয়্যারলেসের সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেন নি।যদি ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের ওয়্যারলেস যদি চালু করা হত তাহলে সম্ভবত অনেক প্রাণ বাচানো যেত।গিবসন আরও সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, পরিস্থিতি সম্পর্কে স্টোন তাকে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন।স্টোন বলেছিলেন, কোনো জাহাজ অহেতুক কারণ ছাড়া সমুদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে উপরে নিক্ষেপ করার কথা না।গিবসন যা লক্ষ্য করেছিলেন, ঐ জাহাজটির সবকিছুই অস্বাভাবিক এবং যা ছিল একরকমের দুর্দশার লক্ষন।ব্রিটিশ তদন্তে বারবার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় স্টোন বলেছিলেন যে, রকেটগুলি যে বিপদের সংকেত হতে পারে সে সময় তিনিও ভাবেন নি। এতকিছুর পরও কেন তিনি টাইটানিকের ডুবে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুই ভাবেন নি এইটাই রহস্যজনক বিষয়।
রাত ২ টায় ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজটি অঞ্চলটি ছেড়ে চলে যাবে বলে সিন্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ঠিক ২.০৫ মিনিটে গিবসন ক্যাপ্টেন লর্ডকে আকাশে আটটি সাদা রকেট দেখা গেছে বলে জানিয়েছিলেন যা ছিল টাইটানিকের চূড়ান্ত বিপদের সংকেত।ঠিক ঐ সময়ে অর্থাৎ রাত ০২:০৫ এর দিকে টাইটানিকের সম্পূর্ণ মাথা প্রায় পানির কাছাকাছি চলে আসে। ০২:১০ এর দিকে পাখা বা প্রপেলারকে দৃশ্যমান করে দিয়ে জাহাজের পেছনের দিক উপরে উঠতে থাকে। ০২:১৭ এর দিকে জাহাজের সামনের দিকের ডেক পর্যন্ত পানি উঠে যায় ও ঠিক এই মূহুর্তেই ফিলিপ্স শেষ বিপদের সংকেত পাঠিয়েছিলেন।তখন জাহাজের পেছনের দিক ধীরে ধীরে আরো উপরের দিকে উঠতে এবং জাহাজের বিদ্যুতিক সিস্টেম বন্ধ হয়ে চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় ।এর কিছুক্ষণ পরেই ভারের কারণে টাইটানিকের দুই ভাগে ভেঙে যায় এবং সম্মুখ ভাগ সম্পুর্ণরূপে পানির নিচে চলে যায়। ফলে জাহাজের পেছনের অংশ খাড়া হয়ে একেবারে লম্বভাবে দাড়িয়ে যায়। বায়ুজনিত ভারসাম্যে কারণে এ অংশটি কিছুক্ষণ ভেসে থাকার পর রাত ০২:২০ মিনিটে ধীরে ধীরে জাহাজের এই অংশটিও সমুদ্রের অতল গভীরে হারিয়ে যায়।
ভোর ৩.৩০ মিনিটে স্টোন এবং গিবসন আবার দক্ষিণে রকেট দেখতে পেয়েছিলেন যখন কার্পাথিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল।ক্যালিফোর্নিয়ান বিপদের সংকেত বুঝে নিশ্চুপ থাকলেও অপরদিকে আরএমএস কার্পাথিয়া ঠিকই টাইটানিকের বিপদে সাড়া দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে রকেট নিক্ষেপ করতে করতে প্রচন্ড গতিতে টাইটানিককে সাহায্যে করার জন্য এগিয়ে আসছিল।৪.১০ মিনিটে তারা প্রথম লাইফবোটের যাত্রীদের উদ্ধার করেছিল।
৪.৩০ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ান ক্যাপ্টেন লর্ড ঘুম থেকে উঠে ডেস্কে বেরিয়ে তার জাহাজকে বরফ কাটিয়ে দক্ষিনে যাওয়ার বিষয়ে ভাবলেন। তিনি স্টুয়ার্টকে পাঠিয়েছিলেন ইভান্সকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য এবং দক্ষিণে যে একটি জাহাজ তারা দেখেছিলেন সেটির কি হয়েছে জানার জন্য। পরবর্তীকালে ৫.৩০ মিনিটে তারা ফ্রাঙ্কফুর্ট নামক জাহাজের কাছ থেকে জানতে পেরেছিল টাইটানিক রাতারাতি ডুবে গেছে।লর্ড জাহাজটি চলার নির্দেশ দিলেন এবং সকাল ৮.৩০ মিনিটে তারা ঘটনাস্থলে পৌছেঁছিল।
কার্পাথিয়া ৭০৫ জনকে উদ্ধার করে ৮.৫০মিনিটে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এবং বেঁচে থাকা ব্যক্তির সন্ধানের জন্য ক্যালিফোর্নিয়াকে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ানরা কেবল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ, খালি লাইফবোট এবং মৃতদেহ পেয়েছিল।
আমেরিকান এবং ব্রিটিশ উভয়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে,ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজটি অবশ্যই ক্যাপ্টেন লর্ডের দাবি করা 19.5 মাইল (31.4 কিলোমিটার) এর চেয়ে বেশি কাছাকাছি ছিল এবং উভয় জাহাজ পরস্পর থেকে দৃশ্যমান ছিল। তাছাড়া কার্পাথিয়া যখন ধ্বংসাত্মক স্থানে পৌঁছেছিল, তখন একটি জাহাজ উত্তর দিকে স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল যেটি পরে ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল।উভয়ের জিজ্ঞাসাবাদে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গিয়েছিল যে, ক্যাপ্টেন লর্ডের সক্ষমতা থাকার পরও তিনি টাইটানিককে যথাযথ সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।সেই রাতে যদি তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন তাহলে সম্ভবত আরো অনেককেই উদ্ধার করা সম্ভব হত।
১৯১৫ সালের ৯ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পূর্ব ভূমধ্যসাগরে জার্মান ডুবোজাহাজ এসএম ইউ -৪৪ এবং অনূর্ধ্ব-৩৫ দ্বারা আক্রমনের ফলে ডুবে গিয়েছিল।(ভাল লাগলে লাইক ও শেয়ার করবেন)
১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে টাইটানিক। সে সময় টাইটানিকে মোট যাত্রী ছিল ২২০০ জন এবং কয়েকশ কর্মী।সেই বছর এপ্রিলে সমুদ্রের আইসবার্গের অবস্থা বিগত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল।আইসবার্গ হল সাগরের বুকে ভাসতে থাকা বিশাল বিশাল সব বরফখণ্ড। এগুলোর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এগুলোর আট ভাগের মাত্র এক ভাগ পানির উপরে থাকে। সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা বড় অংশটি দেখা যায় না
অন্যদিকে ১৯১২ সালের ০৫ এপ্রিলে ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের অধিনায়ক স্ট্যান্ডলি লর্ড, বোস্টনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের লিভারপুলের রয়্যাল অ্যালবার্ট ডক ত্যাগ করেন।এই সমুদ্রযাত্রায় জাহাজটি কোনও যাত্রী বহন করছিল না।
১৪ এপ্রিলে টাইটানিক সর্বমোট ৬ বার বরফখন্ডের সংকেত পেয়েছিল।সকাল ৯.০০ টায় আরএমএস কার্নিয়া ও দুপুর ১.৪২ মিনিটে আরএমএস বেল্টিক জাহাজের মাধ্যমে টাইটানিকের ওয়্যারলেস অফিসার বরফখন্ড সর্ম্পকে সর্তকবার্তা পেয়েছিল।এই সর্তকবার্তাটি ব্রিজে(যেখান থেকে জাহাজ চালানো হয়) পাঠানোর পর টাইটানিকের চালক স্মিথ উত্তরে বাঁক নিয়ে জাহাজ চালানো শুরু করেছিলেন।দুপুর ১.৩০ মিনিটে আমেরিকা নামক একটি জাহাজ যেটি টাইটানিকের কাছাকাছি ও উত্তর দিকেই ছিল তারাও ২টি বড় বরফ খন্ড সর্ম্পকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।কিন্তু ওয়্যারলেস অফিসার নিজস্ব কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে সর্তকবার্তাটি জাহাজের ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রনকেন্দ্রে পাঠাতে ভুলে গিয়েছিলেন।তারপর রাত ৭.২০মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ান ও ৯.৪০ মিনিটে মেসাবা নামক ২টি জাহাজের থেকে টাইটানিকের ওয়্যারলেস অপারেটরকে আইসবার্গ সর্ম্পকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল।কিন্তু এই সতর্কবার্তাগুলিও ব্রিজে বা নিয়ন্ত্রনকেন্দ্রে পাঠানো হয় নি কারন ওয়্যারলেস অফিসার কেপরেসের রেডিও স্টেশনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রাত ১০:৩০ মিনিটে
ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজ যখন একটি বৃহৎ বরফক্ষেত্রের মুখোমুখি হয়ে নিজেরা থেমে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন এই বিষয়ে ওয়্যালেসের মাধ্যমে ঘোষনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের ক্যাপ্টেন।
ক্যালিফোর্নিয়ানের ক্যাপ্টেন লর্ড জাহাজটি থামিয়ে সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।লর্ড জাহাজের ইঞ্জিনিয়ারদের কেবিনে যান এবং তাদের প্রধানের সাথে দেখা করেন, যাকে তিনি থামানোর বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তাঁরা যখন এই বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন তখন তারা দেখতে পেয়েছিলেন যে একটি জাহাজের আলো আসছে। ক্যাপ্টেন লর্ড তার ওয়ারল্যাস অপারেটর ইভান্সকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন "এই অঞ্চলে কি অন্য কোন জাহাজ রয়েছে?ইভান্স উত্তর দিয়েছিলেন শুধুমাত্র টাইটানিক রয়েছে।ক্যাপ্টেন লর্ড ইভান্সকে ওয়্যারলেসে ঘোষনা দিতে বললেন যে ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজকে থামানো হয়েছে এবং বরফের চারপাশে ঘিরে রাখা হয়েছে।
রাত ১১.৩০ মিনিটে এ যখন ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের অপারেটর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে তাদের বিষয়ে জানিয়েছিল তখন টাইটানিকের অন ডিউটি ওয়্যারলেস অপারেটর জ্যাক ফিলিপস ওয়্যারলেস স্টেশনের যাত্রীদের বার্তাগুলির ব্যাকলোগ সাফ করতে ব্যস্ত ছিল।বার বার একই ধরনের বার্তা পাওয়ায় ও তার কাজে ব্যাঘাত ঘটায় তিনি উত্তেজিত হয়ে ক্যালিফোর্নিয়ানের অপারেটরকে বলেছিলেনঃ চুপ কর, চুপ কর আপ!আমি কেপ রেস নিয়ে কাজ করছি। এমন উত্তর পেয়ে ইভানস রেগে তার ওয়্যারলেস সরঞ্জাম বন্ধ করে বিছানায় চলে গেলেন এবং বিরাট বড় ভুলটি করে বসলেন।দশ মিনিট পরে রাত ১১.৪০ এ টাইটানিক একটি আইসবার্গে আঘাত হানে।
![]() |
| টাইটানিকের সাথে এই আইসবার্গের সংঘর্ষ হয়েছিল। |
মধ্যরাতে অর্থাৎ রাত ১২টায়, ক্যালিফোর্নিয়ানের দ্বিতীয় অফিসার হারবার্ট স্টোন ৩য় অফিসার গ্রোভসের নিকট দাঁড়িয়ে সমুদ্রের দিকে নজর রাখেন। তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, তিনিও প্রায় পাঁচ মাইল দূরে একটি জাহাজ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি জাহাজটিকে মোর্স বাতির মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কিন্তু কোন উওর পান নি।অন্যদিকে তখন রাত ১২ টায় টাইটানিকের লাইফবোট গুলিতে যাত্রী উঠানো শুরু হয়েছিল।জাহাজে প্রায় ২২০০ এর উপরে যাত্রী থাকলেও মাত্র ২০টি লাইফবোটে ১১৭৮ জনকে উঠানো যাবে বুঝতে পেরে প্রথমে মহিলা ও শিশুদের উঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং গাইড করার জন্য জাহাজের নাবিকদের সাথে উঠানো হয় এবং ক্যাপ্টেন ওয়্যারলেসে বিপদের সংকেত পাঠাতে বলেছিলেন।১২.১৫ মিনিটে ফ্রানফ্রুট নামের একটি জাহাজ প্রথম সাড়া দিয়েছিল এবং এটি টাইটানিক থেকে প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার দূরে ছিল।১২.২০ মিনিটে আরএমএস কার্পাথিয়া সংকেতে সাড়া দিয়েছিল যার দুরত্ব ছিল টাইটানিক থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার।কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের ওয়্যারলেস থেকে যোগাযোগ করা হয় নি।
![]() |
| ১৫ এপ্রিল ভোর ৬ টায় দূর্ঘটনা কবলিত অঞ্চলের নিকটে ক্যালিফোর্নিয়ানকে দেখা গিয়েছিল। |
১২.৪৫ মিনিটে টাইটানিক থেকে বিপদ সংকেত হিসেবে প্রথম রকেট নিক্ষেপ করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ানের শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা জেমস গিবসন, যিনি মোর্স সিগন্যালিং করছিলেন, তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে ১২.৫৫ মিনিটে ২য় কর্মকর্তা স্টোন তাকে বলেছিল যে, তিনি কাছাকাছি উপরের আকাশে পাঁচটি রকেট পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং বিষয়টি তিনি ক্যাপ্টেন লর্ডকে জানিয়েছিলেন।কিন্তু লর্ড এবং স্টোন উভয়ই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, এটি নাকি কোন সঙ্কটের সংকেত ছিল না।লর্ড স্টোনকে জাহাজেটির সাথে মোর্স ল্যাম্পের মাধ্যমে যোগাযোগের নির্দেশ দিলেও ওয়্যারলেসের সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেন নি।যদি ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজের ওয়্যারলেস যদি চালু করা হত তাহলে সম্ভবত অনেক প্রাণ বাচানো যেত।গিবসন আরও সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, পরিস্থিতি সম্পর্কে স্টোন তাকে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন।স্টোন বলেছিলেন, কোনো জাহাজ অহেতুক কারণ ছাড়া সমুদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে উপরে নিক্ষেপ করার কথা না।গিবসন যা লক্ষ্য করেছিলেন, ঐ জাহাজটির সবকিছুই অস্বাভাবিক এবং যা ছিল একরকমের দুর্দশার লক্ষন।ব্রিটিশ তদন্তে বারবার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় স্টোন বলেছিলেন যে, রকেটগুলি যে বিপদের সংকেত হতে পারে সে সময় তিনিও ভাবেন নি। এতকিছুর পরও কেন তিনি টাইটানিকের ডুবে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুই ভাবেন নি এইটাই রহস্যজনক বিষয়।
রাত ২ টায় ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজটি অঞ্চলটি ছেড়ে চলে যাবে বলে সিন্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ঠিক ২.০৫ মিনিটে গিবসন ক্যাপ্টেন লর্ডকে আকাশে আটটি সাদা রকেট দেখা গেছে বলে জানিয়েছিলেন যা ছিল টাইটানিকের চূড়ান্ত বিপদের সংকেত।ঠিক ঐ সময়ে অর্থাৎ রাত ০২:০৫ এর দিকে টাইটানিকের সম্পূর্ণ মাথা প্রায় পানির কাছাকাছি চলে আসে। ০২:১০ এর দিকে পাখা বা প্রপেলারকে দৃশ্যমান করে দিয়ে জাহাজের পেছনের দিক উপরে উঠতে থাকে। ০২:১৭ এর দিকে জাহাজের সামনের দিকের ডেক পর্যন্ত পানি উঠে যায় ও ঠিক এই মূহুর্তেই ফিলিপ্স শেষ বিপদের সংকেত পাঠিয়েছিলেন।তখন জাহাজের পেছনের দিক ধীরে ধীরে আরো উপরের দিকে উঠতে এবং জাহাজের বিদ্যুতিক সিস্টেম বন্ধ হয়ে চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় ।এর কিছুক্ষণ পরেই ভারের কারণে টাইটানিকের দুই ভাগে ভেঙে যায় এবং সম্মুখ ভাগ সম্পুর্ণরূপে পানির নিচে চলে যায়। ফলে জাহাজের পেছনের অংশ খাড়া হয়ে একেবারে লম্বভাবে দাড়িয়ে যায়। বায়ুজনিত ভারসাম্যে কারণে এ অংশটি কিছুক্ষণ ভেসে থাকার পর রাত ০২:২০ মিনিটে ধীরে ধীরে জাহাজের এই অংশটিও সমুদ্রের অতল গভীরে হারিয়ে যায়।
ভোর ৩.৩০ মিনিটে স্টোন এবং গিবসন আবার দক্ষিণে রকেট দেখতে পেয়েছিলেন যখন কার্পাথিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল।ক্যালিফোর্নিয়ান বিপদের সংকেত বুঝে নিশ্চুপ থাকলেও অপরদিকে আরএমএস কার্পাথিয়া ঠিকই টাইটানিকের বিপদে সাড়া দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে রকেট নিক্ষেপ করতে করতে প্রচন্ড গতিতে টাইটানিককে সাহায্যে করার জন্য এগিয়ে আসছিল।৪.১০ মিনিটে তারা প্রথম লাইফবোটের যাত্রীদের উদ্ধার করেছিল।
৪.৩০ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ান ক্যাপ্টেন লর্ড ঘুম থেকে উঠে ডেস্কে বেরিয়ে তার জাহাজকে বরফ কাটিয়ে দক্ষিনে যাওয়ার বিষয়ে ভাবলেন। তিনি স্টুয়ার্টকে পাঠিয়েছিলেন ইভান্সকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য এবং দক্ষিণে যে একটি জাহাজ তারা দেখেছিলেন সেটির কি হয়েছে জানার জন্য। পরবর্তীকালে ৫.৩০ মিনিটে তারা ফ্রাঙ্কফুর্ট নামক জাহাজের কাছ থেকে জানতে পেরেছিল টাইটানিক রাতারাতি ডুবে গেছে।লর্ড জাহাজটি চলার নির্দেশ দিলেন এবং সকাল ৮.৩০ মিনিটে তারা ঘটনাস্থলে পৌছেঁছিল।
কার্পাথিয়া ৭০৫ জনকে উদ্ধার করে ৮.৫০মিনিটে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এবং বেঁচে থাকা ব্যক্তির সন্ধানের জন্য ক্যালিফোর্নিয়াকে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ানরা কেবল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ, খালি লাইফবোট এবং মৃতদেহ পেয়েছিল।
আমেরিকান এবং ব্রিটিশ উভয়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে,ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজটি অবশ্যই ক্যাপ্টেন লর্ডের দাবি করা 19.5 মাইল (31.4 কিলোমিটার) এর চেয়ে বেশি কাছাকাছি ছিল এবং উভয় জাহাজ পরস্পর থেকে দৃশ্যমান ছিল। তাছাড়া কার্পাথিয়া যখন ধ্বংসাত্মক স্থানে পৌঁছেছিল, তখন একটি জাহাজ উত্তর দিকে স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল যেটি পরে ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল।উভয়ের জিজ্ঞাসাবাদে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গিয়েছিল যে, ক্যাপ্টেন লর্ডের সক্ষমতা থাকার পরও তিনি টাইটানিককে যথাযথ সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।সেই রাতে যদি তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন তাহলে সম্ভবত আরো অনেককেই উদ্ধার করা সম্ভব হত।
১৯১৫ সালের ৯ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ান জাহাজটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পূর্ব ভূমধ্যসাগরে জার্মান ডুবোজাহাজ এসএম ইউ -৪৪ এবং অনূর্ধ্ব-৩৫ দ্বারা আক্রমনের ফলে ডুবে গিয়েছিল।(ভাল লাগলে লাইক ও শেয়ার করবেন)



0 Comments